Featured

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর মাদক ব্যবহার

ওহলারের সর্বাধিক বিক্রীত বই “ডের টটালে রাউশ” (দ্য টোটাল রাশ) ইংরেজীতে প্রকাশিত হয়েছিল ‘ব্লিটজড’ নামে। যেখানে তিনি ওয়েরমাকট (জার্মান সশস্ত্র বাহিনী) সৈন্যরা যে নিয়মিতভাবে ড্রাগ ব্যবহার করতো তার ব্যাখ্যা করেন। ১৯৪০ সালে ফ্রান্সের সফল আক্রমণের আগে মিলিয়নের অধিক সৈন্যদের মেথামফেটামাইন (যা ক্রিস্টাল মিথ হিসাবে বিশেষত পরিচিত ছিল) দেওয়া হয়েছিল।

বার্লিন ভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী টেমলার পার্ভিটিন নামে ড্রাগটি ১৯৩৮ সালে উৎপাদন শুরু করে। যা ব্যবহারে স্নায়ু সক্রিয় হওয়ার সাথে সাথে হতাশা কাটাতে জাদুকরী হিসেবে কাজ করতো। একজন সামরিক চিকিৎসক অটো রাঙ্কে ৯০ জন কলেজ শিক্ষার্থীর উপর পারভিটিনের পরীক্ষা চালায় এবং পরিক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে এই ড্রাগ জার্মানিকে যুদ্ধে জয়ী হতে সহায়তা করবে। পার্ভিটিন ব্যবহার করে ওয়েরমাকট সৈন্যরা পুরো একদিন জেগে থাকতে পারতো এবং কোনো বিশ্রাম ছাড়াই কয়েক মাইল পথ অতিক্রম করতে পারতো।

১৯৪০ সালের এপ্রিলে ইস্যু করা তথাকথিত ‘উদ্দীপক ডিক্রী’র মাধ্যমে ৩৫ মিলিয়ন পিরিটিন এবং ইসোফান (নল ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানী দ্বারা উতপাদিত সংশোধিত সংস্করণ) ট্যাবলেট পাঠানো হয় সৈন্যদের জন্য। যাতে নাৎসি বাহিনী ‘ব্লিট্জক্রিগ’ গতিতে আর্দেনেস পাহাড় অতিক্রম করে ফ্রান্সে আক্রমণ চালাতে পারে।

হিটলারের উগ্র জাতীয়তাবাদ নারসিজম কিনা ভেবে দেখুন তো ?

উল্লেখ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শুধু জার্মানরাই যে তাদের করমদক্ষতা বাড়ানোর জন্য মাদক ব্যবহার করেছে এমনটা নয়। মিত্র বাহিনীর সৈন্যরাও যুদ্ধের ক্লান্তি দূর করার জন্য বেনজেড্রাইনের আকারে অ্যাফেটেরামাইন (গতি) ব্যবহার করেছে।

তবে নাৎসি নেতাদের ক্ষেত্রে তারা তাদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী মাদক বেছে নিতো।  তবে প্রত্যেকেই যে মাদক গ্রহণ করেছে এমনটা নয়। আবার প্রত্যেকে যে একই মাত্রার মাদক গ্রহণ করেছে এমনটাও নয়। কেউ কম আবার কেউ বেশি মাত্রার মাদক গ্রহণ করে। এদের মধ্যে অনেকে মেথামফেটামাইন গ্রহণ করে। বিমান ক্রয় ও সরবরাহ সম্পর্কিত প্রধান চীফ আর্নস্ট উদেট এরকম একজন ছিলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা শক্তিশালী চেতনানাশক ব্যবহার করতো। গারিং বেশ জনপ্রিয় ছিল এ ক্ষেত্রে। একে মরিং বলা হতো (মরফিন থেকে নেওয়া)।

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শুধু যে অক্ষশক্তিই মাদক ব্যবহার করেছে এমন নয়। মিত্র বাহিনীর সৈন্যদের উপরও মাদক প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে সে গল্প অন্য আরেকদিন।

ফিচার ইমেজ: bangla hub

Featured

একজন নারসিস্ট ব্যক্তি কি আজীবন একজনকে নিয়ে থাকতে পারে?

একজন নারর্সিস্ট আজীবন কেবল একজন ব্যক্তির সাথে থাকতে সক্ষম নন। সাধারণত একজন মানুষ অন্য আরেকজনের সাথে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, তর্ক-ক্ষমা করা, জীবনের নানান সমস্যা-আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু একজন নারসিস্ট সাধারণ মানুষের মতো এই কাজগুলো করতে অক্ষম।

তারা নিজেদের মধ্যে এতোটাই ডুবে থাকে যে তাদের থেকে কোনো ধরণের সহানুভূতি কিংবা সহমর্মিতা আশা করা অরণ্যে রোদনের মতো। আপনি যদি একজন নারসিস্টের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন তবে আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে আর কোনো সময় তার জন্য নষ্ট না করা।

নারসিস্ট যেভাবে অনুভব করে আমরা সেভাবে অনুভব করতে পারি না। একজন নারসিস্ট কেবল নিজেকে অনুভব করতে পারে। তারা কেবল নিজের জন্য বাঁচে। নিজের জন্য সন্ধান করে। তাদের একমাত্র উদ্বেগ কেবল তাদের নিয়ে।

যদি আপনারা দু’জন জ্বলন্ত কোনো ভবনে আটকা পরেন তবে এটা নিশ্চিত যে নারসিস্ট আপনাকে বাঁচানোর চেষ্টা করবেন না। তবে দিন শেষে সে গল্পের নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। বিভ্রান্তিকর তাই না? তবে এটাই হচ্ছে একজন নারসিস্টের সাথে আপনার বাকী জীবনের চিত্র। আপনি একটা গর্তের নোংরা ইঁদুরের চেয়েও বেশি নোংরা বোধ করবেন।

আপনি যদি যথাযথ সাপ্লাই দিতে পারেন, যেমন- তাদেরকে কখনো ফোন না করেন, সবসময় এবং সব অবস্থায় তাদের প্রশংসা করেন, তাদের থেকে কখনই কিছু না চান, তাদের যখন যা চাই তা করার স্বাধীনতা দেন, নিঃশব্দে তাদের সব অপমান মেনে নেন তবেই কেবল আপনি কিছুটা সময় তাদের সাথে আশা করতে পারেন।

আজীবন একজন নার্সিসিস্টের সাথে থাকার চেয়ে আপনি বরং প্রার্থনা করুন জীবন নরকে থাকার। একজন নারসিস্টের সাথে আজীবন কাটানো মানে আপনার আশা এবং স্বপ্নগুলো কখনোই দিনের আলোর দেখা পাবে না। একজন নার্সিসিস্টের সাথে জীবন মানে চোখের জলে আপনার জীবন কাটিয়ে দেওয়া।

একজন নারসিস্টের সাথে আজীবন মানে ভোর না হওয়া দীর্ঘ রাত। নিঃসঙ্গ, শীতল বিছানায় ঘুমাতে যাওয়া আর ঐভাবেই জেগে ওঠা অন্ধকার রাতে। একজন নারসিস্টের সাথে জীবন মানে আপনার এই পৃথিবীতে কখনো ভাল কিছু হবে না।

একজন নারকিসিস্টের সাথে আজীবন মানে এমন একজন মানুষের সাথে থাকা যে কখনোই আপনার মঙ্গল বিবেচনা করবে না। আপনি এমন এক নিঃসঙ্গ পৃথিবীতে বাস করবেন যেখানে কোনো আনন্দ নেই।

একজন নার্সিসিস্টের সাথে আজীবন মানে আপনার কোনও পরিবার নেই, বন্ধু নেই, কোনো ক্যারিয়ার নেই, জীবন নেই। একজন নার্সিসিস্টের সাথে জীবনকাল মানে আপনার নিজের কোনো শব্দ নেই। যা একান্তই আপনার। এটিই হল একজন নারসিস্টের সাথে জীবন কাটানোর দুঃখজনক বাস্তবতা!

যদি আপনি এমন কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন তবে দয়া করে বেড়িয়ে আসুন। আর কখনোই পিছনে ফিরে তাকাবেন না। আপনার জীবন রক্ষা করুন। ইতিমধ্যে করা অপব্যবহার থেকে নিজেকে বাঁচান এবং আপনার জীবনের প্রকৃত রাজপুত্র বা রাজকন্যার সন্ধান করুন।

এই পৃথিবীতে সত্যই অনেক ভাল মানুষ রয়েছে যাদের অভাবনীয় ভালবাসার ক্ষমতা আছে। এমন কাউকে সন্ধান করুন! কখনও কখনও অন্য কারও ভালবাসার প্রত্যাশার আগে নিজেকে ভালোবাসার জন্য সময় নেওয়া ভাল।

Feature Image: depressionalliance.com

Featured

নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডার, অদ্ভুত এক মানসিক রোগ

গ্রীক মিথোলজির নার্সিসাসের কথা অনেকেই শুনেছেন। যিনি নিজের প্রেমে এতোটাই মত্ত ছিলেন যে নদীর পানিতে নিজেকে দেখতে দেখতে কখন ডুবে মরে গেছেন নিজেই জানেন না। নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডার রোগটির নাম এই গ্রীক মিথোলজির চরিত্র থেকেই এসেছে।

আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষকেই আমরা দেখতে পাই যারা আত্মকেন্দ্রিক। এই আত্মকেন্দ্রিকতার চূড়ান্ত রূপ হচ্ছে নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডার। এমন অনেক মানুষ পাবেন যারা দোষ করে নিজের দোষ স্বীকার করার পরিবর্তে আপনার উপরই চাপিয়ে দেবে উল্টো।

Image Source: psychcentral.com

এমন অনেককে পাবেন যারা নিজেদের কষ্টে একেবারে নাজেহাল। কিন্তু আশপাশের মানুষের কষ্ট কখনোই তাদের স্পর্শ করে না। তারা কাঁদতে জানেন, কিন্ত শুধুই নিজেদের জন্য। এই লেখাটিতে আমরা এই ধরণের মানুষের যে রোগে আক্রান্ত তা সম্পর্কে জানতে পারবো।

নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডার কী ?

ব্যক্তিত্বের সমস্যাজনিত ব্যাধিগুলোর মধ্যে একটি এই নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডার। যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তারা চায় সবসময় সবার মনোযোগ এবং প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে। এ ধরনের মানুষের মধ্যে অন্যের প্রতি সহানুভূতির অভাব দেখা যায়।

যে সহানুভূতি তারা দেখায় তা শুধু নিজেকে মহৎ ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য। তাদের দেখে খুব আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও চরম আত্মবিশ্বাসের এই মুখোশের আড়ালে একটি ভঙ্গুর আত্ম-মর্যাদাবোধ কাজ করে। যা সামান্যতম সমালোচনায় ভেঙ্গে পরে।

নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডার জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, যেমন কারো সাথে সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্র, স্কুল বা আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত বিশেষভাবে অসন্তুষ্ট এবং হতাশ হয়ে পারে যখন তাদের প্রশংসা না করা হয়। যা তারা বিশ্বাস করে যে তাদের প্রাপ্য।

Image Source: psychcentral.com

তাদের সম্পর্কগুলো সবসময় অসম্পূর্ণ হয়ে থাকে এবং তাদের চারপাশে থাকা মোটেও উপভোগ্য নয়। তারা যখন জানতে পারে অন্য তার প্রতি আগ্রহ আছে কিংবা তাকে পছন্দ করে, তখন তারা প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন পরিস্থিতির মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করে। তাদের ইগো তখনই কেবল সন্তুষ্ট হয় যখন তার পার্টনার ঐ চ্যালেঞ্জে হেরে যায়।

তাদের মোটিভ কখনোই যাচাই করা নয়। বরং নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা। তাই না বুঝেও যদি এমন কারো ফাঁদে পা দিয়ে থাকেন তবে সব যুক্তি-তর্ক জলাঞ্জলি দিয়ে বেড়িয়ে আসুন। এই খেলা আপনাকে এতোটাই নিচে নামিয়ে দেবে যে আপনি একসময় নিজেকে আর খুঁজে পাবেন না। অবাক হয়ে একদিন নিজেকে আবিষ্কার করবেন নোংরা কোনো ডাস্টবিনে, যখন আপনাকে ছুড়ে ফেলা হবে।

কারণ আপনি যখন ভাবছেন অনুভূতি দিয়ে তখন নারসিস্ট ব্যক্তিটি ভাবছে লজিক দিয়ে। আর লজিক জেতার জন্য যা খুশি করতে পারে। কিন্তু অনুভূতি কিংবা হৃদয় ভাবে অন্যদের অনুভূতির কথা, অন্যদের কষ্টের কথা।

Image Source: psychcentral.com

উপসর্গ

নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডারের লক্ষণ এবং লক্ষণগুলোর তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে সাধারণত নিন্মোক্ত লক্ষ্মণগুলো দেখা যায়,

  • নিজেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা।
  • সবকিছুতে নিজেকে প্রশংসার দাবীদার মনে করা।
  • কোনো ধরণের অর্জন ছাড়াই স্বীকৃতি পাওয়ার আশা করা।
  • নিজের অর্জন এবং প্রতিভা সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ধারণা রাখা।
  • সাফল্য, শক্তি, সৌন্দর্য বা নিখুঁত সঙ্গীর কল্পনা নিয়ে ব্যস্ত থাকা।
  • বিশ্বাস করা যে তারা উচ্চ শ্রেণীর এবং কেবল এধরনের ব্যক্তিদের সাথেই তাদের জমবে।
  • কথোপোকথন কিংবা আলোচনা একচেটিয়া হয়ে থাকে সাধারণত নারসিস্ট ব্যক্তির সাথে।
  • অন্যদের নিকৃষ্ট বলে বিবেচনা করা।
  • বিশেষ প্রত্যাশা এবং তাদের প্রত্যাশার সাথে সবার সম্মতি আশা করা।
  • অন্যের প্রয়োজন এবং অনুভূতিগুলোর ক্ষেত্রে উদাসীনতা বা অনাগ্রহী।
  • অনেক সময় প্রয়োজন কিংবা অনুভূতিগুলোর ক্ষেত্রে মনোযোগ শুধুমাত্র তাদের মহত্ত্ব প্রকাশের মাধ্যম হয়ে থাকে। তা ছাড়া অন্য কোনো ধরণের অনুভূতি কাজ করে না।
  • তাদের যা প্রয়োজন তা উদ্ধারে অন্যদের ব্যবহার করা।
  • অন্যের প্রতি ঈর্ষা করা এবং বিশ্বাস করা যে অন্যরা তাকে ঈর্ষা করে।
  • সব ক্ষেত্রে অহঙ্কারী আচরণ।
  • সব কিছুর সেরাটা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
  • নিজেকে সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে মনে করা।

Image Source: psychcentral.com

নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো কিছু সহ্য করতে না পারা। এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক সমালোচনার সম্মুখীন হয়ে তারা তা করতে পারেন তা হচ্ছে,

  • হঠাৎ অস্বাভাবিক রেগে যাওয়া। রাগ নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়া।
  • ক্রোধ বা অবজ্ঞার সাথে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অন্যকে ছোট করার চেষ্টা।
  • আবেগ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা।
  • মানসিক চাপ মোকাবেলা এবং পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় সমস্যার সম্মুখীন হওয়া।
  • সব সময় হতাশ এবং রাগ অনুভব করা নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়।
  • নিরাপত্তাহীনতা, লজ্জা, দুর্বলতা এবং অপমানের অনুভূতি।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি কখনোই এই রোগের উপসর্গের কারণে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন না। কারণ তাদের ইগো কখনোই তাদের এটা করতে দেবে না। তারা সাধারণত হতাশা, ড্রাগ বা অ্যালকোহলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, বা অন্য কোনও মানসিক ও স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণগুলো নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

আপাত দৃষ্টিতে খুব সাধারণ হলেও এটা আপনার জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। এক বিন্দু শান্তি পাবেন না। যদি যথা সময়ে যথাযথ চিকিৎসা না নেন। সঠিক চিকিত্সা আপনার জীবনকে উপভোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে। সঠিক সময়ে যথাযথ পরামর্শ নিন।

Image Source: study.com

কারণ

অন্যান্য মানসিক রোগগুলোর মতো নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডারেরও কারণ গুলো কী হতে পারে তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে নিন্মোক্ত কারণগুলো উল্লেখযোগ্য,

  • পরিবেশ – অতিরিক্ত যত্ন বা সমালোচনার মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে।
  • জেনেটিক্স – উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত।
  • নিউরোবায়োলজি – মস্তিষ্ক, আচরণ এবং চিন্তাভাবনার মধ্যে সংযোগজনিত সমস্যা।

ঝুঁকিপূর্ণ দিক

এই রোগ নারীদের চেয়ে পুরুষদের বেশি প্রভাবিত করে। প্রায়শই কৈশোরে বা যৌবনের শুরুতে এর লক্ষন দেখা যায়। যদিও কিছু বাচ্চা শৈশবে নার্সিস্টিক বৈশিষ্ট্যগুলো দেখাতে পারে। তবে এটি তাদের বয়সের সাধারণ প্রভাব মাত্র। এর অর্থ এই নয় যে তারা নার্সিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজ-অর্ডারে আক্রান্ত। শিশুদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়।

Image Source: facebook.com

কিছু গবেষক মনে করেন যে, জৈবিকভাবে দুর্বল শিশুদের মধ্যে, ওভারপ্রোটেক্টিভ বা অবহেলার শিকার শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ দেখা যায়। জেনেটিক্স এবং নিউরোবায়োলজি নার্সিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার বিকাশে ভূমিকা পালন করে।

জটিলতা

  • সম্পর্কে জটিলতা।
  • কর্মক্ষেত্র বা স্কুলে জটিলতা।
  • হতাশা এবং উদ্বেগ।
  • বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা।
  • ড্রাগ বা অ্যালকোহলের অপব্যবহার।
  • আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা বা আচরণ।

প্রতিকার

  • যে কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • যোগাযোগের স্বাস্থ্যকর উপায়গুলো জানার জন্য বা মানসিক সঙ্কটের সাথে লড়াই করার জন্য থেরাপিতে অংশ নিতে পারেন।
  • প্যারেন্টিং ক্লাসে যোগ দিন এবং প্রয়োজনে থেরাপিস্ট বা সমাজকর্মীদের কাছ থেকে নির্দেশনা নিন।
  • স্বাস্থ্যকর পারিবারিক পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন।

Image Source: westermind.com

এই হলো নার্সিস্টিক পারসোনালিটি ডিজ-অর্ডারের সাদা-মাটা পরিচয়। তবে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। বাংলাদেশে সন্তান পালনের পদ্ধতি কিংবা পরিবেশ কোনোটাই খুব স্বাস্থ্যকর নয়। অনেক শারীরিক রোগের প্রতিকারই যেখানে কঠিন, সেখানে কে ভাববে মানসিক রোগের কথা? কিন্তু ভাবতে হয়। অসুস্থ মন নিয়ে বেড়ে চলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা।

তাই জানতে হবে, আমরা কিংবা আমাদের আশপাশের কেউ অসুস্থ কিনা মানসিকভাবে। তাহলে অন্তত অনেক ঐশী তৈরি হওয়া থেকে বেঁচে যাবে আমাদের এই সমাজ।

ভালো থাকুন। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। ধন্যবাদ।

Feature Image: psychcentral.com

Design a site like this with WordPress.com
শুরু করুন